আমাদের বিদ্যালয় রচনা
Essay
বিদ্যালয় বলতেই আমাদের মনে ভেসে উঠে একটি স্থান বা ঘর, যেখানের জ্ঞানের চর্চা হয়। আমাদের সংস্কৃতিতে বিদ্যা কে দেবির মর্জাদা দেওয়া হয়েছে, আর বিদ্যালয় কে দেওয়া হয়েছে মন্দিরের স্থান। তাই মানব সমাজে বিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
[সংকেত : ভূমিকা; প্রতিষ্ঠা; অবস্থান; বিদ্যালয়ের পরিবেশ; শিক্ষার্থী; শিক্ষক; লেখাপড়ার পদ্ধতি; গবেষণাগার; পাঠ্যক্রম-অতিরিক্ত বিষয়ের চর্চা; অনুষ্ঠানাদি; খেলাধুলা ;পরীক্ষার ফল; নিজস্ব বৈশিষ্ট্য; উপসংহার।]
ভুমিকাঃ
"বিদ্যালয়, মোদের বিদ্যালয়
এখানে সভ্যতার ফুল ফোটানো হয় "
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার জন্য চাই আদর্শ বিদ্যাপীঠ। এক সময় শিক্ষা ছিল আশ্রমে কেন্দ্রিক। শিক্ষার্থী সেই সময় আশ্রমে থেকেই গুরুর কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করত। আদর্শ বিদ্যালয় এক-একটি আশ্রমবিশেষ। এমনই একটি আশ্রম আমার বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের নাম কুমিল্লা হাইস্কুল
প্রতিষ্ঠাঃ
কুমিল্লা জেলার শতাব্দী প্রাচীন একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিখ্যাত নবাব আলী নওয়াব চৌধুরী তার পিতা নবাব ইউসুফ আলী চৌধুরীর নামে ১৮৭৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এ-বিদ্যালয়ে পাঠদান করা হয়। বিদ্যালয়টি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে বেশ কয়েকবার স্বীকৃক্তি লাভ করেছে।
অবস্থানঃ
কুমিল্লার কেন্দ্রবিন্দুতে আমাদের বিদ্যালয় অবস্থিত। জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে মনােম পরিবেশে বিদ্যালয়। এর উত্তর পাশে একটি ব্যস্ত রাস্তা। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার জন্য ভালাে ব্যবস্থা রয়েছে। মহানগরীর যেকোনাে এলাকা থেকে বিদ্যালয়ে সহজেই আসা যায়।
বিদ্যালয়ের পরিবেশ:
বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে। বিশাল প্রাঙ্গণে দুটি দীর্ঘকায় চারতলা ভবন। তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি করে শাখা এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে সাতটি করে শাখা রয়েছে। প্রতি শাখার জন্যই রয়েছে আলাদা ও পরিপাটি শ্রেণিকক্ষ। অধ্যক্ষ ও মূল উপাধ্যক্ষের নিজের কক্ষ রয়েছে। বিভিন্ন অংশে বিভক্ত একটি বড় অফিম আছে। শিক্ষকের জন্য রয়েছে তিনটি সুন্দর কক্ষ। একটি বড় পাঠাগার আছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে। বিদ্যালয় ভবনের সামনে বিশাল মাঠ।
শিক্ষার্থী :
আমাদের বিদ্যালয়ে প্রতিটি শ্রেণিতে তিনটি করে শাখা । প্রতি শাখায় পঞ্চান্ন জন করে শিক্ষার্থী। তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মােট শিক্ষার্থীসংখ্যা তেরশাে পঞ্চাশ এবং কলেজ শাখার শিক্ষার্থীসংখ্যা এক হাজার চারশাে। কার্মযক্র শুরুর পূর্বে শিক্ষার্থী যখন জাতীয় সংগীত পরিবেশনের জন্য একসঙ্গে দাঁড়াই, তখন মনে হয় এ যেন শিক্ষার্থীদের এক বিশাল মিলনমেলা।
শিক্ষক :
আমাদের অধ্যক্ষ একজন উচ্চ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। আমাদের দুজন উপাধ্যক্ষ আছেন। প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ আমাদের সন্তানের মতাে স্নেহ করেন এবং আলােকিত মানুষ হবার শিক্ষা দেন। আমরা তাদের গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি।
লেখাপড়ার পদ্ধতি :
সরকারের নতুন নিয়মে সপ্তায় পাঁচ দিন আমাদের বিদ্যালয় খােলা থাকে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। প্রতিদিন আমাদের ছয়টি ক্লাস হয়। প্রতি সপ্তাহে রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার, আগের সপ্তাহে পড়ানাে হয়েছে এমন সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। এ ছাড়াও বছরে তিনটি পরীক্ষা হয়। সাপ্তাহিক ও টেস্টের ৩০% এবং ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক ও বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফল তৈরি করা হয়। পরীক্ষার কারণে আমাদের পড়ালেখার টেবিল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপায় থাকে না।
গবেষণাগার :
বিজ্ঞানের বিষয়গুলাের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞান গবেষণাগার এবং কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে আমাদের বিদ্যালয়ে৷
পাঠ্যক্রম-অতিরিক্ত বিষয়ের চর্চা :
আমাদের বিদ্যালয়ে কতগুলাে ক্লাব আছে। যেমন- নাট্যদল, সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিতর্ক ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব, সংগীতদল, পাঠচক্র ও শরীরচর্চা ক্লাব।
অনুষ্ঠানাদি :
ক্লাবগুলাে সারা বছর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের আয়ােজন করে থাকে। এসব অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ আসেন। তাঁদের সঙ্গে পরিচিত হবার সুযােগ যেমন আমরা পাই, তেমনি তাঁদের কাছ থেকে নতুন নতুন তথ্য জানতে পারি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান মেলা,পিঠা উৎসব ইত্যাদি।
খেলাধুলা :
আমাদের বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি অনেক বড়। মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা হয়। প্রতিদিন বিকেলে মৌসুম অনুযায়ী ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল ও ব্যাডমিন্টন খেলা হয়। আমাদের বিদ্যালয়ে ফুটবল, ক্রিকেট ও বাস্কেটবল টিম আছে। বিভিন্ন প্রতিযােগিতায় অংশগ্রহণ করে আমরা অনেক পুরস্কার লাভ করেছি।
পরীক্ষার ফল:
প্রতিবছরই আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালাে ফল অর্জন করে। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল সবার দৃষ্টি কাড়ে। মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় আমাদের বিদ্যালয় প্রতিবছরই সেরা দশে থাকে।তবে মনে রাখতে হবে মহামারির কারে ২ বছর পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
নিজস্ব বৈশিষ্ট্য :
পরীক্ষার ভালাে ফল এবং ক্লাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য আমাদের বিদ্যালয়ের সুনাম রয়েছে। আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষাপদ্ধতি ও নিয়ম-শৃঙ্খলা অন্য সব প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যতিক্রমী।
উপসংহার:
একটি আদর্শ বিদ্যালয় বলতে যা বােঝায়, আমাদের বিদ্যালয় তাই। মনােরম পরিবেশ, জ্ঞানী-গুণী শিক্ষক আর সেরা ফলাফলের জন্য আমাদের বিদ্যালয় অতুলনীয়। এ-প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। আমাদের বিদ্যালয় সব সময় দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হােক- এই আমার প্রত্যাশা।
"Thank you"